দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমন মৌসুমে আগাম জাতের ধান চাষে মাগুরায় কৃষকের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কম থাকায় কৃষকের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির হাসি। তবে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মাগুরা সদর উপজেলার মঘী, কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে আমন ধানে থোড় বের হয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা মিলছে ধানের শীষের। বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের গাছ। আগাম জাতের ধান দ্রুত ঘরে তোলার আশায় কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্যম।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৮৭ ও বিনা ধান-১৭-এর মতো আগাম জাতের ধান তুলনামূলক কম সময়ে পেকে যায়। ফলে অন্যান্য জাতের তুলনায় আগেই ধান ঘরে তুলতে পারেন কৃষক। এতে উৎপাদন খরচ মেটানোর পাশাপাশি মৌসুমের শুরুতেই কৃষকের হাতে নগদ অর্থ আসে।
মাগুরা সদর উপজেলায় এ বছর ২৩ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে।
কৃষক আতর আলী বলেন, সার ও ওষুধ ঠিকমতো পেলে আমরা ভালোভাবে ধান চাষ করতে পারি। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় দ্রুত ধান বড় হয়েছে। ইতোমধ্যে থোড় ও শীষ বের হয়েছে। ধানের দাম ভালো পেলে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারব।
স্থানীয় কৃষক মো. মঈনউদ্দীন বলেন, সময়মতো সঠিক ওষুধ ও কীটনাশক পেলে ফলন আরও ভালো করা সম্ভব। এ বছর ধানের ভালো দাম পেলে পরিবার নিয়ে একটু সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারব। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
কৃষকরা জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে তারা ফসল উৎপাদন করেন। তাই চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সময়মতো পাওয়া এবং বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগাম আমন তাদের জীবনে স্বস্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আনতে পারে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর-এ নবী বলেন, এ বছর আবহাওয়া যথেষ্ট অনুকূলে রয়েছে। মাঠে ধানগাছের যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে এবং আগাম জাতের ধান রোপণ করায় ইতোমধ্যে কাঁচা থোড় দেখা দিয়েছে। এ বছর ২৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আশা করছি, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, সময়মতো সার ও কীটনাশক সরবরাহ এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগাম আমনের ফলন ও লাভ দুই-ই তাদের মুখে হাসি ধরে রাখবে।
যে আই